২৬ বছর পর প্রবাস থেকে ফিরে স্ত্রী ও ছেলের নি;র্যা;তনের শি;কার হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন কফিল উদ্দিন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রী ও ছেলের নি;র্যা;তনের শি;কার হয়ে বাড়িছাড়া হয়ে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা কফিল উদ্দিন। চার বাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও এখন পথে পথে ঘুরছেন কুয়েত থেকে ফেরত আসা এই ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সম্পত্তির জন্য নিজের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে সাইফুল ইসলামের করা শা;রীরিক ও মানসিক নি;র্যা;তনের বর্ণনা দিয়েছেন কফিল উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘১৯৮৯ সালে আমার বড়ভাই আব্দুল মজিদ মা;রা যাওয়ার পর ১৯৯২ সালে তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে আমি বিয়ে করি। ভাইয়ের মৃ;;ত্যুর সময় তার চার ছেলে ও এক ছোট মেয়ে বাচ্চা ছিল। আমি তাদেরকে আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছি। এর মধ্যে আমারো এক ছেলে হয়েছে। আমার ভাইয়ের চার ছেলেকেই আমি নিজের টাকায় বিদেশে পাঠিয়েছি।

আমি দীর্ঘ ২৬ বছর কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত ২০১৯ সালে দেশে চলে আসি। আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রতিবারই দেশে ছুটিতে আসার পর জায়গা-জমি কিনেছি। ২৬ বছর প্রবাসে থেকে রাস্তায় ফেরি করে মাছ বিক্রির কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকায় চারটি বাড়ি, স্থানীয় ধারিয়ারচর বাজারে একটি দোকান এবং ১৭ কানি জমি কিনেছি।

আমি দেশে একেবারে চলে আসার আগেরবার যখন ছুটিতে এসেছিলাম, তখন একটি জমি কেনার জন্য আমার স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমি দেশে আসার পর আমার নিজের ছেলে সাইফুল ইসলাম তাকে ব্যবসার জন্য টাকা দিতে আমাকে চাপ দিতে থাকে। পরে ১২ লাখ টাকা খরচ করে স্থানীয় বাজারে একটি কাপড়ের দোকান করে দেই। আমার স্ত্রীর কাছে জমি কেনার জন্য দিয়ে যাওয়া ১০ লাখ টাকার হিসাব চাইলে হিসাব না দিয়ে উল্টো তার এবং আমার ছেলে সাইফুলের নামে জায়গা-সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে।

তারা সকল সম্পত্তির দলিল নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়। আমি তাদেরকে বলি, আগে আমার সম্পদের দলিল বুঝিয়ে দাও, এরপর আমি সেগুলো বণ্টন করে দেব। কিন্তু তারা রাজি না হয়ে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। বিদেশে থাকা আমার ভাইয়ের চার ছেলের শলাপরামর্শে তারা আমার ওপর নি;র্যাত;ন চালাতে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি খেলাম কিনা, শরীর ভালো কিনা- সেটার খবর নেয়ারও প্রয়োজন মনে করে না আমার স্ত্রী ও ছেলে। গত সাড়ে পাঁচ মাস আগে আমাকে আমার ভাগ্নির বাড়ি থেকে আমাকে জো;রপূর্বক ধরে নিয়ে আসে। এরপর আমাকে ঘরে আটকে রেখে সস্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য শারীরিক নি;র্যা;তন চালয়। একপর্যায়ে আমাকে শরবতের সাথে মেশানো ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ফেলে।

পরে অচেতন অবস্থায় আমার টিপসই নিয়ে কিছু সম্পদ তাদের নামে লিখে নেয়। আমি বাঞ্ছারামপুর থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করি। এরপর থেকেই আমি বাড়িছাড়া। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে আমার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করি। মামলার পর থেকে আমাকে মা;রার জন্য হ;ন্নে হয়ে খুঁজছে তারা। আমার নিজের ঘর-বাড়ি থাকা সত্ত্বেও পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।’

‘আমি আমার ওপর যে অন্যায়, অ;ত্যা;চার-নি;র্যাত;ন হয়েছে, সেটির বিচার চাই। আমার সারাজীবনের কষ্টার্জি;ত অর্থে গড়া সম্পত্তিগুলো ফেরত চাই। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চাই আমি,’ বলেন তিনি।

তবে বাবাকে নি;র্যাত;ন করে সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কফিল উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাবা নিজের ইচ্ছায় আমাদের সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। বাবাকে কখনোই সম্পত্তির জন্য নি;র্যাত;ন করা হয়নি।’

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com
Developed By Kidarkar IT Solution