বিএনপির বিরুদ্ধে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র!

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে
BNP

এবার বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে রিটের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে। দলের হাইকমান্ডের সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেলেই এই রিট দায়ের করা হবে হাইকোর্টে। কোন বেঞ্চে এই রিট দায়ের করা হবে, রিটের আবেদনে কী ধরনের আদেশ চাওয়া হবে, কাকে এ রিটে আবেদনকারী করা হবে এবং আইনজীবী হিসেবে কারা এর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে থাকবেন সব চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে।

রিটে মূল যুক্তি তুলে ধরা হবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। এ মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরো নেতা বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পেয়েছেন। এ ছাড়া যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলায় জড়িত থাকার ব্যাপারে বিভিন্ন মামলা দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার কিছু কিছুতে বিচার ও শাস্তি দেয়ার ঘটনার রেফারেন্সও থাকতে পারে এ আবেদনে।

সরকারি দলের একটি উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় প্রধান বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা জানিয়েছেন। এর আগে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দলÑ এই মর্মে মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্য রাখার জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে যুবলীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই দাবিতে সরকারি দলের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনও কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোরালোভাবে অবয়ব নেয়ার কারণে কূটনৈতিক সূত্রসহ অন্যান্য মহল থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এটি হলে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপও সরকারি দলের বিপর্যয় রোধ করতে যথেষ্ট হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মালদ্বীপের নির্বাচনের সাম্প্রতিক উদাহরণের বিষয়টি সামনে রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে, যেকোনো অজুহাতে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে না পারলে জয় নিশ্চিত করা যাবে না। আর নিবন্ধন বাতিলই তাদেরকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে কার্যকর অজুহাত হবে।

নতুন এ রিটটি নির্বাচন নির্দিষ্ট সময়সীমা থেকে পেছানোর একটি কারণ হিসেবেও কাজ করতে পারে। সংবিধান অনুসারে জরুরি অবস্থা জারি ছাড়া সরকার নির্বাচন পেছাতে পারবে না; কিন্তু আদালত থেকে রায় এলে এটি সম্ভব।

এ বিষয়টিকে সামনে রেখে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের বিবেচ্য রিট ছাড়াও সম্প্রতি আরো কয়েকটি রিট দায়ের করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে। গত সেপ্টেম্বরের শেষে সংসদ বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট করা হয়েছে। এ রিটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪২ দিন আগেই দশম সংসদ বাতিল, নতুন আঙ্গিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি দাখিল করেন। এ রিট আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
এর দিন দশেক পর জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আরেকটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ’-এর নিবন্ধন না দেয়া পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিটটিও দায়ের করেন। এ রিটে ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশে’ রাজনৈতিক দল হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।- সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com
Developed By Kidarkar IT Solution