মুশফিকের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬১

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে
mushfiq

স্কোর: বাংলাদেশ ২৬১/১০ (৪৯.৩ ওভার)।

মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

একপাশে উইকেট পড়েছে নিয়মিতই। তবে অন্য পাশে অবিচল থেকেছেন মুশফিকুর রহিম। তুলে নিয়েছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। ৯৭ থেকে লাকমালকে গ্লান্স করে চার হাঁকিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম।

টিকলেন না মাশরাফি-রুবেল

বেশিক্ষণ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেন। দুজনই ফিরেছেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে। ১১ রান করে মাশরাফি ক্যাচ দিয়েছেন থারাঙ্গাকে। রুবেল এলবিডব্লিউ হয়েছেন ২ রান করে। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৮ উইকেটে ২০৩।

লাকমালের দারুণ ক্যাচে মিরাজের বিদায়

পরপর তিন ওভারে তিন উইকেট হারানোর পর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু জুটিটা ৩৩ রানের বেশি বড় হলো না। দারুণ ফিরতি ক্যাচ নিয়ে মিরাজকে ফিরিয়েছেন সুরঙ্গা লাকমাল। ২১ বলে মিরাজ করেন ১৫ রান। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৬ উইকেটে ১৭৫।

দ্রুতই ফিরলেন মোসাদ্দেকও

মাহমুদউল্লাহর পর মোসাদ্দেক হোসেনও ফিরেছেন দ্রতই। মালিঙ্গার লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি (৫ বলে ১)। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ১৩৪ থেকে বাংলাদেশের স্কোর দ্রুতই তখন ৫ উইকেটে ১৪২!

বাজে শটে ‍ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ

মিথুনের বিদায়ে বড় জুটি ভাঙার পরপরই আউট হয়েছেন মাহমুদউল্লাহও। বাঁহাতি স্পিনার আমিলা আপনসোর ঝুলিয়ে দেওয়া বলে স্লগ করতে চেয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। কাভারে দারুণ এক ক্যাচ নেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ৪ বলে মাহমুদউল্লাহ করেন ১ রান।

ফিরেই মিথুনকে ফেরালেন মালিঙ্গা

জুটি ভাঙতে মালিঙ্গাকে আক্রমণে এনেছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই মিথুনকে ফিরিয়ে রেকর্ড জুটি ভেঙেছেন মালিঙ্গা। অফ স্টাম্পের লেংথ বল মিড উইকেটে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন মিথুন। বল উঠে যায় আকাশে। ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক কুশল পেরেরা। ৬৮ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ৬৩ রান করেন মিথুন।

মিথুনের বিদায়ে ভাঙে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তার ১৩১ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। ওয়ানডেতে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের শতরানের জুটি এটিই প্রথম। ২০১৪ সালে সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের ৯৯ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।

মুশফিকের ফিফটি

মোহাম্মদ মিথুনের পর ফিফটি পেয়েছেন মুশফিকুর রহিমও। ১০ রানে জীবন পেয়ে সুযোগটা তিনিও ভালোভাবেই কাজে লাগালেন। ৪৯ থেকে সানাকার বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

মিথুনের ফিফটিতে বাংলাদেশের সেঞ্চুরি

১ রানে জীবন পেয়েছিলেন। সেই সুযোগটা দুই হাতে কাজে লাগালেন মোহাম্মদ মিথুন। তুলে নিলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। ৪৬ থেকে সুরঙ্গা লাকমালকে চার হাঁকিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার চারে পূর্ণ হয় বাংলাদেশের দলীয় সেঞ্চুরিও। ৫২ বলে ফিফটি করতে ৪টি চারের সঙ্গে দুটি ছক্কা হাঁকান মিথুন। ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১০২ রান।

মিথুনের ব্যাটে বাউন্ডারির হ্যাটট্রিক

পানি পানের বিরতির পর ১৬তম ওভারে দিলরুয়ান পেরেরার শেষ তিন বলে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন মোহাম্মদ মিথুন। অফ স্পিনারের চতুর্থ বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং-অফের ওপর দিয়ে মারেন ছক্কা। পরের দুই বলে দুই চার। প্রথমটা পয়েন্ট দিয়ে, দ্বিতীয়টা কাভার ড্রাইভে।

জীবন পেলেন মুশফিকও

নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন থিসারা পেরেরা, উইকেটটা হতে পারত মুশফিকুর রহিমের। লেগ স্টাম্পে পেরেরার ফুল লেংথ বলে শট খেলেছিলেন মুশফিক, স্কয়ার লেগে ক্যাচ ফেলেন দিলরুয়ান পেরেরা। মুশফিক জীবন পান ১০ রানে।

অবশেষে বাউন্ডারি

ইনিংসে প্রথম বাউন্ডারির জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে অষ্টম ওভারের শেষ বল পর্যন্ত। মানে ৪৮ বল! সুরঙ্গা লাকমালের ফুললেংথ বল লেগ সাইড দিয়ে চার হাঁকান মুশফিকুর রহিম। আট ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ২০ রান।

জীবন পেলেন মিথুন

চতুর্থ ওভারে মালিঙ্গার বলে আউট হয়ে যেতে পারতেন মোহাম্মদ মিথুন। লেগ স্টাম্পে মালিঙ্গার ফুলার লেংথ বল মিড উইকেটে খেলতে চেয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু বল চলে যায় মিড অনে। সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে চেষ্টা করেছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, কিন্তু বল হাতে জমাতে পারেননি।

শেষ বলে ফুলটসে ফাইন লেগে আবার ক্যাচ দিয়েছিলেন মিথুন। এবার ক্যাচ ছাড়েন আরেক শ্রীলঙ্কান ফিল্ডার। যদিও সেটা ছিল ‘নো’ বল। ফ্রি-হিটে মিড অনে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমও!

চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন তামিম

প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় ওভারে আরেকটি ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। সুরঙ্গা লাকমালের বলে হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন তামিম ইকবাল। লাকমালের শর্ট বলে পুল করার চেষ্টায় চোট পান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। চোট কতটা গুরুতর, সেটা এখনো জানা যায়নি।

আঙুলে ব্যথা থাকায় এমনিতেই প্রথম ম্যাচে তামিমের খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। শঙ্কা উড়িয়ে খেলতে নামলেও নতুন করে চোট পেলেন তামিম। বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধাক্কাই!

জোড়া ধাক্কায় শুরু

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ওভারে লাসিথ মালিঙ্গার শেষ দুই বলে বাংলাদেশ হারিয়েছে ২ উইকেট! অফ স্টাম্পের বাইরে করা পঞ্চম বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন ওপেনার লিটন দাস। তিন বল খেলে লিটন মেরেছেন ডাক। পরের বলে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক মেরেছেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ওভারে ১ রানেই নেই বাংলাদেশের ২ উইকেট!

টস জেতার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, ‘আগে ব্যাট করার জন্য ভালো উইকেট এটা। আমরা শুনেছি, শেষের দিকে এখানকার উইকেটে টার্ন করে। সুতরাং আগে ব্যাট করে ভালো একটা সংগ্রহ গড়াটা ভালো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর ছেলেরা দারুণ ফর্মে আছে। বোলাররাও দারুণ করেছে।’

শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস বলেছেন, টস জিতলে তিনিও আগে ব্যাটিং নিতেন।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায়।

বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ মিথুন, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান

শ্রীলঙ্কা দল: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (অধিনায়ক), উপুল থারাঙ্গা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, কুশল পেরেরা, কুশল মেন্ডিস, থিসারা পেরেরা, দাসুন শানাকা, লাসিথ মালিঙ্গা, সুরঙ্গা লাকমাল, আমিলা আপনসো, দিলরুয়ান পেরেরা।

২৩ বছর পর আমিরাতে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিল ১৯৯৫ সালের এপ্রিলে। সেটাও ছিল এশিয়া কাপেই। ২৩ বছর পর আবার আমিরাতে ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ।

বন্ধুকে সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও যা পড়ে দেখতে পারেন
Copyright © 2021 All rights reserved www.mediamorol.com
Developed By Kidarkar IT Solution